• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আস্থা পুনর্গঠন ও সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার খলিলুর রহমানের 

     adminm 
    03rd Jun 2026 11:10 am  |  অনলাইন সংস্করণ

    অনলাইন ডেস্ক:    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন, ঐক্য তৈরি ও জাতিসংঘের অভ্যন্তরে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

    এ বিশ্ব সংস্থাটি’র আগামী অধিবেশনের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

    গতকাল নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাধারণ পরিষদের আগামী ৮১তম অধিবেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। কারণ এই অধিবেশনে সাধারণ পরিষদকে জাতিসংঘ সংস্কার, পরবর্তী প্রজন্মের বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডার প্রস্তুতি ও পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের মাধ্যমে জাতিসংঘের নেতৃত্বে পরিবর্তনের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাচনের পর নিজের প্রথম সংবাদ বিবৃতিতে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আজ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো আমাকে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। আমি বিনম্রতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’

    ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন বৈষম্যসহ বিশ্ব যখন বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই সাধারণ পরিষদ তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

    এ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র ঘোষণা করেছেন, যা তার সভাপতিত্বের মেয়াদকালে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

    অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলো হলো: শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার; টেকসই উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ত্বরান্বিত করা; জলবায়ু সহনশীলতা ও পরিবেশগত স্থায়ীত্ব; মানবাধিকার, মানবিক সহায়তা, শরণার্থী ও অভিবাসী; ডিজিটাল গভর্নেন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন উদ্যোগ, ইউএন-৮০ (জাতিসংঘের ৮০ বছর পূর্তি) সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন।

    ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন নবনির্বাচিত সভাপতি।

    তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর আমি সাধারণ পরিষদকে বলেছি, আমি আস্থা পুনর্গঠন, ঐক্য গড়ে তোলা ও সদিচ্ছামূলক আলোচনার পথ উন্মুক্ত করতে নিজেকে নিয়োজিত করব। এর ফলে এমন ফলাফল আসবে, যা সবার জন্য কল্যাণকর হবে ও যাতে সবার অংশীদারিত্ব থাকবে।’

    নিরপেক্ষতা ও অন্তর্ভুক্তির প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ড. খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘের সনদ সমুন্নত রাখবেন এবং এই পদের আচরণবিধি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হব। আমার কাজের ক্ষেত্রে আমি সব সদস্য রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করব।’

    ড. খলিলুর রহমান জানান, সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি নিজের ব্যক্তিগত মতামতকে কখনো প্রশ্রয় দেবেন না।

    মতানৈক্য সত্ত্বেও দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন মেলবন্ধন খুঁজে বের করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি মতপার্থক্যগুলোকে উপেক্ষা না করেই সবার সাধারণ অবস্থান খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করব।’

    তিনি ঘোষণা করেন, তার কার্যালয় ভৌগোলিক, লিঙ্গ ও ভাষাগত ভারসাম্য বজায় রাখবে।

    এ ছাড়া, জাতিসংঘে ছোট প্রতিনিধি দলগুলোর চাহিদা পূরণে সভাপতির কার্যালয়ের ভেতরে একটি বিশেষ দল গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান ড. খলিলুর রহমান।

    সভাপতির কার্যালয়ের কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ‘পিজিএ ট্রাস্ট ফান্ড’-এ অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, ‘সভাপতির কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তার জন্য আমি সব সদস্য রাষ্ট্রকে পিজিএ ট্রাস্ট ফান্ডে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছি।’

    ড. খলিলুর রহমান আরও জানান, একটি শক্তিশালী ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের জন্য পর্যাপ্ত দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন নিশ্চিত করতেও তিনি কাজ করবেন।

    নবনির্বাচিত সভাপতি উল্লেখ করেন, তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বকে কোনো বিচ্ছিন্ন কাজ নয়, বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন। বর্তমান সভাপতির শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোকে তিনি এগিয়ে নেওয়ারও অঙ্গীকার করেন।

    জাতিসংঘের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা স্বীকার করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই সংস্থার অর্জন ও প্রভাবগুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সংবাদমাধ্যমগুলো একটি প্রধান অংশীদার হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ানোর একটি প্রধান উপায় হলো জাতিসংঘের মানুষের কাছে আমাদের সাফল্যের গল্পগুলো পৌঁছে দেওয়া। এই কাজ করার জন্য জাতিসংঘ কাভার সাংবাদিক সমাজই সবচেয়ে সেরা মাধ্যম।’

    তিনি তার পুরো মেয়াদে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য একটি কার্যকর যোগাযোগ দল গঠনেরও প্রতিশ্রুতি দেন।

    জাতিসংঘের ১৯০টি ভোটদানকারী সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি গোপন ব্যালট নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছেন ৯১ ভোট। বিপরীতে ৯৯ ভোট পেয়ে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান।

    আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব করার গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছেন।

    Array
    We use all content from others website just for demo purpose. We suggest to remove all content after building your demo website. And Dont copy our content without our permission.
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর