• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • মামলা জট নিরসনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে জোর দিচ্ছে সরকার : আইনমন্ত্রী 

     adminm 
    30th Jul 2026 1:19 pm  |  অনলাইন সংস্করণ

    অনলাইন ডেস্ক:   দেশে দীর্ঘদিনের মামলা জট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    তিনি জানান, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও এডিআর-এর ইতিবাচক ব্যবহারের ফলে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের চলমান সময়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের আওতায় মামলা দায়েরের (ফাইলিং) হার ৬২ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

    আজ সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের (ডিবিএলএ) সাথে ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আদালতগুলোতে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি বড় বোঝা। এই মামলা জট কমানোর লক্ষ্যেই সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।’

    তিনি বলেন, ‘১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলেই প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে দেশে প্রথম সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, যা ২০০১ সালে আইনে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে আমরা সেই আইনকে আরও যুগোপযোগী করেছি।’

    সরকারের একার পক্ষে এই বিশাল কাজ শেষ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের মতো অভিজ্ঞ এনজিওগুলোর দক্ষতা ও প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে সরকার কাজে লাগাতে চায়। পাশাপাশি জাপান (জাইকা), জার্মানির জিআইজেড ও ইউএনডিপির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাও এডিআর জোরদারে সহযোগিতা করছে।

    মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, মালয়েশিয়া মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই বছরের মধ্যে ড্রাস্টিক্যালি (ব্যাপকভাবে) মামলা জট কমাতে সক্ষম হয়েছিল। আমরাও সেই অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করছি। প্রি-ট্রায়াল বা মামলা দায়েরের আগের মধ্যস্থতার পাশাপাশি আদালতে বিচারাধীন (পোস্ট-ফাইলিং) মামলাগুলোতেও বিচারকগণ যেন এডিআর ব্যবহারে উৎসাহিত হন, সে আহ্বান জানান তিনি।

    জমিজমা সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা কমাতে সরকার আইন সংস্কারের পরিকল্পনা করছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চিন্তা চলছে। হেবা বা উইলের ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় পিতা-মাতা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর চরম অসহায় হয়ে পড়েন। তাই ‘গিফট’ বা দানপত্রে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা ভোগাধিকার যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পিতা-মাতা বেঁচে থাকা পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগদখল নিজের কাছে রাখতে পারবেন এবং তাদের অনুমতি ছাড়া সন্তান সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না। এতে করে দেওয়ানি মামলা বা পরিবারভিত্তিক সম্পত্তির বিরোধ বিপুল পরিমাণে কমে যাবে।’

    আইনগত সহায়তার সর্বজনীন অধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নির্যাতনের ঘটনা এবং এক নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের আইনি সহায়তার বিষয়ে জানান, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সরকারি খরচে লিগ্যাল এইড থেকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অর্থের অভাবে দেশের কোনো মানুষ যেন বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস, অতিরিক্ত সচিব এস, এম, এরশাদুল আলম, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং ব্র্যাকের সেল্প কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    Array
    We use all content from others website just for demo purpose. We suggest to remove all content after building your demo website. And Dont copy our content without our permission.
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর