• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • কাতারের দেওয়া বিলাসবহুল বিমানে আয়ারল্যান্ড যাচ্ছেন ট্রাম্প 

     adminm 
    05th Sep 2026 10:31 am  |  অনলাইন সংস্করণ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, তুরস্কে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের ঘটনার পর প্রথম বিদেশ সফরে তিনি কাতারের দেওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানটি ব্যবহার করবেন। তবে বিমানটির অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করতে আরও সময় লাগবে।

    আগামী মাসে বিমানটিতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করার কথা রয়েছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় গত জুলাইয়ে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ঘটনা ঘিরে বিমানটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ইরানের সম্ভাব্য হুমকির খবর পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রথমে পুরোনো একটি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ওঠেন। পরে গোপনে আরেকটি ছোট বিমানে চলে যান বলে জানা যায়।

    শুক্রবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও আগামী সপ্তাহে আয়ারল্যান্ড সফরে কাতারের রাজপরিবারের উপহার দেওয়া বিমানটিই ব্যবহার করবেন।

    বিমানটিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করার আগের ঘোষণা বহাল আছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রস্তুত করা হবে। হ্যাঁ, এটি অসাধারণ একটি বিমান।’

    তিনি বলেন, বিমানটিতে অনেক ধরনের নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এমনভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে প্রায় ৬০ দিন সময় লাগবে, যাতে এটি ‘যেকোনো অঞ্চলে নিরাপদে যেতে পারে’। অক্টোবর মাসে বিমানটি সেই আপগ্রেডের জন্য পাঠানো হবে।

    তবে এবার ট্রাম্প যে সময়সীমার কথা বলেছেন, তা তার আগের ঘোষণার প্রায় দ্বিগুণ। গত ১৯ জুলাই তিনি জানিয়েছিলেন, বিমানটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে প্রায় এক মাস সময় লাগবে।

    হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

    প্রশাসনিক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এমন একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা বজায় রাখি, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য নিরাপদ, সুরক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য সক্ষমতা নিশ্চিত করে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেই সক্ষমতা নিয়মিতভাবে উন্নত করা হয়।’

    তিনি বিমানটিকে ‘এ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের জন্য নির্মিত সবচেয়ে সেরা বিমান’ বলেও মন্তব্য করেন।

    ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে সংক্ষিপ্ত সফরে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন যাবেন। এরপর দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় ডুনবেগে তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন গলফ কোর্সে আইরিশ ওপেন দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

    কাতার ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭ বিমানটি উপহার দেয়। এর আগে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো প্রেসিডেন্টবাহী বিমানগুলো পুরোনো হয়ে যাওয়া এবং সেগুলোর বদলে নতুন বিমান সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

    তবে বিদেশি একটি দেশের কাছ থেকে এত দামি উপহার গ্রহণ করায় শুরু থেকেই নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

    মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমানটিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পর জুনের শেষ দিকে এটি ট্রাম্পের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। তখন ট্রাম্প এটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান’ এবং ‘উড়ন্ত হোয়াইট হাউস’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

    তবে দ্রুত পরিবর্তন আনার কারণে কাতারের দেওয়া বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়।

    এরপর গত জুলাইয়ে আঙ্কারা ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছিলেন, তখন ইসরাইল সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে। ওই সময় পুরোনো একটি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

    কিন্তু পরে জানা যায়, ট্রাম্প গোপনে পুরোনো বিমানটি একটি খাবার সরবরাহকারী ট্রাকের আড়ালে রেখে অন্য একটি ছোট বিমানে উঠে যান।

    আগস্টে এ বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘তারা আমাকে অন্য একটি ফ্লাইট, অন্য একটি বিমানে যেতে বলেছিল—নিরাপত্তা একই ছিল। তারা আমাকে যেতে বলেছিল, তাই আমি গিয়েছি। তারা যা বলে, আমি তা করি।’

    এদিকে ট্রাম্প অন্য বিমানে চলে গেলেও সাংবাদিক ও তাঁর শীর্ষ সহযোগীরা আগের ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ছিলেন। ফলে ওই বিমানটি সম্ভাব্য ইরানি হামলার ঝুঁকিতে ছিল বলে ধারণা করা হয়।

    ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ২০২৯ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর কাতারের দেওয়া বিমানটি তার পরিকল্পিত প্রেসিডেন্ট জাদুঘরে রাখা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

    বোয়িং জানিয়েছে, নতুন করে প্রেসিডেন্টের জন্য নির্মিত দুটি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর প্রথমটি ২০২৮ সালে সরবরাহ করার আশা করছে। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক বছর দেরিতে বিমান দুটি সরবরাহ করা হবে।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে সম্ভবত এটি জাদুঘরেই যাবে। নির্ধারিত পরিকল্পনাও সেটিই।’

    তবে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাতারের দেওয়া বিমানটি ব্যক্তিগত বিমান হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। বিদেশি কোনো দেশের কাছ থেকে প্রেসিডেন্টদের উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে নৈতিক প্রশ্নও রয়েছে।

    Array
    We use all content from others website just for demo purpose. We suggest to remove all content after building your demo website. And Dont copy our content without our permission.
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর