• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মেসি 

     adminm 
    14th Jul 2026 1:29 pm  |  অনলাইন সংস্করণ

    খেলাধুলা ডেস্ক:   বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে প্রায় সবকিছুই অর্জন করেছেন লিওনেল মেসি। তবে ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার কখনও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি। অবশেষে সেই সুযোগ আসছে বুধবারের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের জয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন মেসি। এখন তার স্বপ্ন, আবারও দেশকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যাওয়া।

    সর্বকালের অন্যতম সেরা এই প্লেমেকারের অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সম্ভবত শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে গেছে। ২০০৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সতেজ এক তরুণ হিসেবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি।

    এর আগের বছরের শেষ দিকে বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার পর নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি।

    সেই বছরের আগস্টে বুদাপেস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে কোচ হোসে পেকারম্যান তাকে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকের সুযোগ দেন। ৬৪তম মিনিটে লিসান্দ্রো লোপেজের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে তিনি হার্নান ক্রেসপোর সঙ্গে আক্রমণভাগে যোগ দেন।

    কিন্তু মাঠে নামার মাত্র ৯০ সেকেন্ড পরই কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখান। এ কারনে আর্জেন্টিনার হয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনাটা ছিল সত্যিই বিব্রতকর।

    ক্রেসপো তখন বলেছিলেন, “১৮ বছরের একটি ছেলে, যে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক করছে এবং যার সামনে অনেক স্বপ্ন- তাকে এভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত হয়নি। রেফারির আরও সহানুভূতিশীল হওয়া দরকার ছিল।”

    এখন সেই ঘটনার কথা ভেবে হয়তো মেসি হাসতেই পারেন। কারণ ওই লাল কার্ডের কারণে তিন মাস পর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি।

    এরপর থেকে দুই দেশের আর মুখোমুখি হওয়া হয়নি। ফলে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের ছাদের নিচে এবারই প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন মেসি।

    শেষ আটে কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পর মেসি বলেন, “ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সব দলের বিপক্ষেই আমি খেলেছি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা বিশেষ, কারণ তারা একটি বড় ফুটবল শক্তি। এমন একটি দলের বিপক্ষে, তাও আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে পারা সবসময়ই দারুণ ব্যাপার।”

    চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার মতোই আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়ে কিংবদন্তির কাতারে নাম লিখিয়েছিলেন মেসি। এবার তিনি আশা করছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তার সেই পূর্বসূরির মতোই স্মরণীয় ছাপ রেখে যেতে পারবেন।

    এই দুই দেশের যেকোনো লড়াই মানেই মনে পড়ে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের কথা। সেই ম্যাচে ম্যারাডোনা হাত দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে গোল করেছিলেন। পরবর্তীতে যা ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের তকমা পায়। এরপর ইংল্যান্ডের অর্ধেক রক্ষণভাগকে কাটিয়ে করেন আরেকটি অসাধারণ গোল, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের এখনও  অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত।

    মেসি ঠিক তেমন কোনো গোল না করলেও, চলতি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে ছিলেন তিনি।

    বিশ্বকাপে রেকর্ড ৩২টি ম্যাচে ২১ গোল করে তিনি কোয়ার্টার-ফাইনাল শেষে ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়ে এক গোল এগিয়ে ছিলেন।

    ইন্টার মায়ামির এই তারকা সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করেছিলেন। তবে ওই ম্যাচে তিনি গোল করার দায়িত্বটা অন্যদের ওপর ছেড়ে দেন।

    এখন আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা থেকে মাত্র এক ম্যাচ দূরে আর্জেন্টিনা। তাদের লক্ষ্য ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখা।

    এটি হলে চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠবে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে মেসি অনুসরণ করতে পারবেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুল-ব্যাক কাফুর কীর্তি। কাফু ১৯৯৪ থেকে ২০০২ পর্যন্ত টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিলেন। ম্যারাডোনাও খেলেছেন মাত্র দুটি ফাইনাল।

    মেসি বলেন, “আরেকটি সেমিফাইনালে ওঠা কোনো সাধারণ বা স্বাভাবিক বিষয় নয়। তাই এই মুহূর্তটা আমাদের সত্যিই উপভোগ করা উচিত, কারণ আবার এমন সুযোগ আসবে কি না, আমরা জানি না।”

    Array
    We use all content from others website just for demo purpose. We suggest to remove all content after building your demo website. And Dont copy our content without our permission.
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর